Header Ads

Header ADS

লিয়ানা ত্রিপুরা পপি হত্যার প্রতিবাদে ঢাকায় দ্বিতীয়বারের মতো মানববন্ধনে লিয়ানার ছোট ভাই জয়ন্ত নিকোলাস ত্রিপুরা বক্তব্য প্রদান করেন

লিয়ানা ত্রিপুরা পপি হত্যার প্রতিবাদে ঢাকায় দ্বিতীয়বারের মতো মানববন্ধনে লিয়ানার ছোট ভাই ঢাবি ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী জয়ন্ত নিকোলাস ত্রিপুরা বক্তব্য প্রদান করেন।
জয়ন্ত-র ফেইসবুক ওয়াল থেকে

২৪ নভেম্বর সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা হলেও অন্য দশজন শিক্ষার্থীর মতো পড়ার টেবিলে না থেকে বাধ্য হয়ে নয় কিন্তু দিদির জন্য সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে  যা দেখার না তাই দেখতে হচ্ছে, যা করার না তাই করতে হচ্ছে বলে এক হৃদয় বিদারক বক্তব্য প্রদান করেন জয়ন্ত।
আজ ১৫ নভেম্বর ২০১৯ শাহবাগস্থ জাদুঘরে লিয়ানা ত্রিপুরা পপি হত্যার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে নিজ বক্তব্য জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে শেয়ার করেন নিহতের ছোট ভাই জয়ন্ত নিকোলাস ত্রিপুরা।
লিয়ানা ত্রিপুরা পপি


 তিনি লিখেছেন - 

সন্মানিত সুধী, বড় দাদা, দিদি, আমার সহপাঠী এবং পপিদির চিরশান্তি কামনা প্রার্থী যাঁরা উপস্থিত রয়েছেন, সকলকে, আমাদের পরিবারের পক্ষ হতে  আপনাদের জানাচ্ছি ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা।
আজ শুক্রবার, দিদির মৃত্যুর চার সপ্তাহ পূর্ণ হলো।মানুষ হয়ে জন্মেছি একদিন আমাদের সবারই এই পথের পথগামী হতে হবে, ধুলার তৈরী, ধুলিতেই মিশে যাবে আমাদের দেহ। শুধু থেকে যায় স্মৃতি, রয়ে যায় ভালোবাসার মুহূর্তগুলো..
দিন শুরু হয়, রাত আসে, কেটে যায় একটি একটি করে দিন, 
শুধু কেটে যাচ্ছে না, মায়ের চোখের জল, নেমে যাচ্ছে না বাবার বুকের পাথর, থামছে না এক বোনের আর্তনাদ..স্বাভাবিক হওয়ার অভিনয় করছে এক ভাই,
পাঁচজনের সুখের সংসার, ভালোবাসার সংসার, মায়ের মমতার সংসার,বাবার ছায়াতলের শীতল সংসার, তিন ভাইবোনের দুষ্টুমিষ্টির খুঁনসুটির সংসার, থেমে গেলো এক কৃত্রিম ঝড়ের কারণে..
যে ঝড় বড়লোকের হাতের তৈরী, যে ঝড় কোন এক ধনীর ছেলের বিলাসিতার প্রতিচ্ছবি , যে ঝড়ে ভেঙ্গে গেলো আমার মিষ্টি বোনটার এই সুন্দর পৃথিবীতে  বেঁচে থাকার স্বপ্ন, ভেঙ্গে গেলো তার নিজের ভাইটাকে মানুষের মতন মানুষ বানিয়ে দেখার স্বপ্ন..
আমার বাবা এখন এইখানে উপস্থিত.. বাবার কথা বলার কথা ছিলো আমার জায়গায়, কিন্তু বাবা কথা বলতে পারছেন না, তার বদলে নিরবে চোখের জল মুছতেসেন..
আমি এখন মায়ের চোখের দিকে তাকাতে পারি না, চোখের দিকে তাকালেই দেখি, কন্যা হারানোর কষ্ট তাঁকে কুরে কুরে খাচ্ছে।
আমার এই মাসের ২৪ তারিখ হতে সেমিস্টার ফাইনাল পরিক্ষা, অথচ সিলেবাসের ১% ও আমি শেষ করতে পারিনি, দৌড়াচ্ছি এদিক সেদিক, আমার ক্লাসমেইটরা যেইখানে সিলেবাস শেষ করার দৌড়ে দৌড়াচ্ছে, সেইখানে আমাকে, যেটা  জানার জিনিস নয় জানতে হচ্ছে, যেটা দেখার জিনিস না, সেইটাই দেখতে হচ্ছে আমাকে যেইটা করার কথা ছিলো না, সেইটাই করতে হচ্ছে আমাকে,
কিসের জন্য জানছি আমি? কিসের জন্য দেখছি আমি? কিসের জন্য করছি আমি?
বাধ্য হয়ে??
না.....আমি জানছি, দেখছি, করছি শুধু মাত্র আমার বোনের হত্যার সুষ্ঠু বিচারের জন্য, তাঁর আত্মার চির শান্তির জন্য, ঐ খুনীর যদি আইনি মোতাবেক সর্বোচ্চ শাস্তি হয়, তবেই দিদির আত্মা শান্তি পাবে, মায়ের চোখের জলের কিছুটা হলেও দাম পাবো, বাবার বুকের পাথর কিছুটা হলেও হালকা হবে, বড় দিদির বোন হারানোর আর্তনাদ কিছুটা হলেও কমবে। আজ আপনারা যাঁরা উপস্থিত আছেন, এবং যাঁরা উপস্থিত থাকতে পারেন নি আপনাদের ভালোবাসা, সহযোগিতা আমি এবং আমার পরিবার অনেক পেয়েছি, এবং পাবো এই বিশ্বাস আমার আছে, আমি গুলশান থানাকেও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি, উনাদের সহযোগিতায় আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে, ভবিষ্যতেও আপনাদের পাশে পাবো বলে আমি এবং আমরা সবাই বিশ্বাস করি...
এই মাসের ১৯ তারিখ ১ম শুনানি, আসামি যেন কোন ভাবেই জামিন না পাই সেই প্রার্থনা, আপনাদের প্রার্থনায় স্মরণ রাখার অনুরোধ করে, দুঃখিনী মায়ের আর্তনাদ, এক ভাইয়ের আর্তনাদ এইখানেই শেষ করছি।
ধন্যবাদ।

 উল্লেখ্য,  ১৮ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে ঢাকার গুলশানে একটি ঘাতক প্রাইভেটকারের ধাক্কায় বান্দরবান সরকারি কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী লিয়ানা ত্রিপুরা পপির মৃত্যু হয়।

(ঈষৎ সম্পাদিত)

No comments

Powered by Blogger.