Header Ads

Header ADS

বাগাছাস-কেন্দ্রীয় সংসদের গৌরব ও ঐতিহ্যের ৪০বছর পূর্তি উদযাপন


বাগাছাস-কেন্দ্রীয় সংসদের গৌরব ও ঐতিহ্যের ৪০বছর পূর্তি উদযাপন



বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন (বাগাছাস) - কেন্দ্রীয় সংসদ কর্তৃক আয়োজিত সংগঠনটির আন্দোলন, সংগ্রাম ও স্বগৌরবের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হলো। এছাড়াও কেন্দ্রীয় সংসদের নির্দেশে ময়মনসিংহ মহানগর শাখা, মধুপুর উপজেলা শাখাসহ সারাদেশের সকল শাখায় বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন (বাগাছাস)-কেন্দ্রীয় সংসদের ৪০ বছর পূর্তি পালন করা হয়।

বাংলাদেশ গারো আদিবাসী ছাত্রদের প্রতিনিধিত্বকারী অন্যতম বৃহৎ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন (বাগাছাস)'। শিক্ষার্থীদের অধিকার সংরক্ষণ ও গারো জাতীয় স্বার্থরক্ষাসহ সকল অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ ভূমিকা নিতে ১৯৭৯ সালে ২৪ নভেম্বর ময়মনসিংহ মহানগরীর  কাঁচিঝুলিতে এর প্রতিষ্ঠা। সম্মানের সহিত দেশে আদিবাসী দিবস উদযাপন দাবি, মধুপুরে ইকোপার্ক বিরোধী আন্দোলনসহ আদিবাসী ইস্যুগুলোতে বাগাছাসের তৎপরতায় রাজপথ প্রকম্পিত হয়েছে বারবার। ঐক্য, শিক্ষা, ও মূল্যবোধকে ধারণ করে বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক চর্চায় ইতিমধ্যে জনসাধারণের আস্থা কুড়িয়েছে বাগাছাস।




৪০ বৎসরে পদার্পণের মুহূর্তে বাগাছাস জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় এর আন্তরিকতা ও প্রতিজ্ঞা ভাগাভাগি করে নিতেই গতকাল রোববার ২৪ নভেম্বর ঢাকা, তেজগাঁও-এর রেভা. চার্লস জে. ইয়ং ভবনে উদযাপন করলো এর ৪০ বছর পূর্তি।


বাগাছাস-কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি লিংকন ডিব্রা-এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অনুপ হাদিমা-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রসাদ চাম্বুগং, সাবেক সভাপতি, বাগাছাস-কেন্দ্রীয় সংসদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শান্ত নকরেক, সাবেক সভাপতি-ঢাকা মহানগর শাখা এবং সিনিয়র শিক্ষক-সরকারি বিজ্ঞান কলেজ (সংযুক্ত); রঞ্জিত নকরেক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাগাছাস-কেন্দ্রীয় সংসদ; ডেভিড চিরান, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাগাছাস-কেন্দ্রীয় সংসদ প্রমুখ।

প্রারম্ভে বাগাছাসের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক প্রয়াত কৃষিবিদ ড. নীরেন পৌল সাংমা এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা সেক্টর কমাণ্ডার ডা. উইলিয়াম ম্রং স্মরণে শ্রদ্ধা ও ভক্তির সঙ্গে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয় ত্যাগী সকল নেতা ও কর্মীদের যাঁদের নিরলস শ্রম, মেধা, ত্যাগ-তিতিক্ষায় বাগাছাসের সুদীর্ঘ পথচলা এবং আজ ৪০ বছরে পদার্পণ। পুষ্পার্ঘ প্রদান করা হয় উপস্থিত অতিথিবৃন্দকে।

রঞ্জিত নকরেক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাগাছাস-কেন্দ্রীয় সংসদ


সাবেক সাধারণ সম্পাদক রঞ্জিত নকরেক বলেন,
১৯৭৯ সালের ২৪ নভেম্বর বিশেষ লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠালাভ করেছিলো বাগাছাস। গারো ছাত্র-ছাত্রীদের বিভিন্ন পশ্চাৎপদতা কাটিয়ে উঠতে, সামাজিক-রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক অগ্রসরতার লক্ষ্য নিয়ে ভাটিকেশরের ব্রাহ্মপল্লী হোস্টেলে কতিপয় মেধাবী সাহসী ছাত্রনেতার উদ্যোগে এ মহান সংগঠনের সূত্রপাত ঘটে, যা পূর্ণাঙ্গতা পায় কাঁচিঝুলিতে। টিডব্লিউএ এবং বাগাছাসেরও আগে রাজনৈতিক মুখপাত্ররূপে ছিলো 'আচিক সংঘ'। পঁচাত্তর পটপরবর্তীতে রাষ্ট্রীয়ভাবে একে দমন করার জন্য তৎকালীন সরকার বিভিন্ন চাপ সৃষ্টি করে। নানা রকম চাপ অব্যাহত থাকলে তা আর এগিয়ে যেতে পারে নি। দমন করার জন্য দেওয়া হয় এর বিরুদ্ধে নানা অপবাদ। পরবর্তীতে প্রয়াত এডভোকেট প্রমোদ মানকিন 'ট্রাইবাল ইয়ুথ এসোসিয়েশন' নামে আরেকটি সংগঠন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালালেও তা আর বাস্তবে রূপ পায়নি। এরপর প্রয়াত কৃষিবিদ ড. নীরেন পৌল সাংমা, প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. উইলিয়াম ম্রং, প্রদীপ তজু প্রমুখ মেধাবী ছাত্রনেতাগণ একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠার প্রয়াস চালান। যা অস্তিত্বপ্রাপ্ত হয়ে আজ ৪০ বছরে পদার্পণ করেছে।
শান্ত নকরেক, সাবেক সভাপতি, বাগাছাস-ঢাকা মহানগর শাখা এবং সিনিয়র শিক্ষক, সরকারি বিজ্ঞান কলেজ (সংযুক্ত)

বাগাছাস ঢাকা মহানগর শাখার সাবেক সভাপতি শান্ত নকরেক বলেন, 
বাগাছাস-কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সভাপতি প্রলয় চিসিম উনার বক্তব্যে একটি কথা বলতেন - 'বাগাছাস একটি নাম, বাগাছাস একটি অস্তিত্ব'। বাগাছাস কাওকে ভয় করে না, নিজস্ব গতিতে চলে। ভয় পেয়ে সংগঠন করলে চলবে না। বাগাছাসের উৎপত্তিই সাহসিকতার সঙ্গে।" তিনি ত্যাগী নেতা-কর্মীদের কথা এবং কেন্দ্রীয় সংসদ ও ঢাকা মহানগর শাখার প্রতিষ্ঠার ইতিহাস স্মৃতিচারণের পর বলেন, "জাতিকে, সমাজকে নেতৃত্ব দিতে গেলে, ছাত্রদের কল্যাণে কাজ করতে গেলে ছাত্রসংগঠনে থাকতেই হবে। তৎপর হতে হবে, চ্যালেঞ্জ নিতে হবে, আরও ডিজিটাল হতে হবে।
প্রসাদ চাম্বুগং, সাবেক সভাপতি, বাগাছাস-কেন্দ্রীয় সংসদ

প্রধান অতিথি প্রসাদ চাম্বুগং তাঁর বক্তব্যে বলেন,
বাগাছাসের বড় প্রাপ্তি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া। বড় প্রাপ্তি সমাজে নেতৃত্ব তৈরিতে আমরা সক্ষম হয়েছি। বাগাছাসের সন্তানেরা উজ্জ্বল মেধাবী, এক একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র। 
তিনি সরব উন্মুক্ত আলোচনার মধ্য দিয়ে উপস্থিত সকলের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সঞ্চার করেন। শুধু মেধা থাকলেই হবে না, পরিশ্রমও করতে হবে এই বলে তিনি ক্যারিয়ার বিষয়ে টেবিল ডিসকাশনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং নানা দিকনির্দেশনা প্রদান করে বক্তব্য শেষ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ডেভিড চিরান, সাংগঠনিক সম্পাদক-বাগাছাস কেন্দ্রীয় সংসদ; প্যাট্রিক চিসিম, সভাপতি, বাগাছাস-ঢাকা মহানগর শাখা; নিকসেং চিসিম, সহ-সভাপতি, হালুয়াঘাট উপজেলা শাখা প্রমুখ।

লিংকন ডিব্রা, সভাপতি, বাগাছাস-কেন্দ্রীয় সংসদ


ফান্ড গঠন এবং নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে উপস্থিত সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সভার প্রথম অধিবেশন সমাপ্তি ঘোষণা করেন বাগাছাস কেন্দ্রীয় সংসদের বর্তমান সংগ্রামী সভাপতি লিংকন ডিব্রা।

দ্বিতীয় অধিবেশনে ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা হয়। কেক কাটার আনন্দঘন মুহুর্তে শুভ্রপতাকাধারী সংগঠনের গর্বিত সন্তানেরা, জাতি ও সমাজের গর্ব গারো মাৎগ্রিকগণের (Warriors) কণ্ঠে সমস্বরে উচ্চারিত হলো,
হ্যাপি বার্থডে টু ইউ, বাগাছাস (আচ্চিনামসাল বাগাছাস)।
অনুপ হাদিমা, সাধারণ সম্পাদক (জিএস), বাগাছাস-কেন্দ্রীয় সংসদ

4 comments:

  1. অভিনন্দন সবাইকে।
    খা সাংমা
    খা মারাক।।

    ReplyDelete
    Replies
    1. ধন্যবাদ ভাই।
      খা সাংমা
      খা মারাক।।

      Delete
  2. ছাত্রজীবন হোক আনন্দঘন, শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দাও অন্ধকারে, জ্ঞানের আলোয় প্রদীপ্ত হও, হে বাগাছাস।
    খা সাংমা
    খা মারাক।।

    ReplyDelete
    Replies
    1. অসংখ্য ধন্যবাদ ও শুভ কামনা নিরন্তর।
      খা সাংমা
      খা মারাক।।

      Delete

Powered by Blogger.